বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে আরও ১৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৭০

বগুড়ায় করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্ত বেড়েই চলেছে দিনদিন। করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৬ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। করোনায় মারা যাওয়া ৯ জনের বাড়িই বগুড়া জেলায়।

নতুন যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তারা হলেন- সদরের আব্দুল হাকিম (৪৯), শেরপুরের নাজমা (৬৭), আদমদীঘির শামসুননাহার (৫৫) ও বেদেনা (৪০), নন্দীগ্রামের আব্দুল জব্বার (৭০), কাহালুর মুসলেমা (৪৫), শাজাহানপুরের তানিয়া (২৫), দুপচাঁচিয়ার আগর আলী (৫৫) এবং সদরের ঠেঙামারা এলাকার বাদশা মিয়া (৬২)। এদের মধ্যে হাকিম, নাজমা, শামসুন নাহার ও বেদেনা সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে, জব্বার, মুসলেমা ও তানিয়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ(শজিমেক) হাসপাতালে এবং আগর ও বাদশা মিয়া টিএমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বগুড়ার সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা.সাজ্জাদ-উল-হক শুক্রবার অনলাইন ব্রিফিংয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক ঐ ভাইরাসে জেলায় নতুন করে আরও ১৭০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা উপসর্গ নিয়ে দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৬ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।

ডা: সাজ্জাদ-উল-হক জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ৫১২টি নমুনা পরীক্ষায় ১৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রন্তের হার ৩৩ দশমিক ২০ শতাংশ। এদের মধ্যে সদরের ৯৬ জন, শাজাহানপুরের ১৪ জন, শিবগঞ্জে ৯ জন, ধুনটে ৯ জন, গাবতলীতে ৭ জন, সারিয়াকান্দিতে ৬ জন, দুপচাঁচিয়ায় ৬ জন, নন্দীগ্রামে ৬ জন, শেরপুরে ৬ জন, কাহালুতে ৫ জন, সোনাতলায় ৪ জন এবং আদমদীঘিতে ২জন। এছাড়া একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন আরও ৯৫ জন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমন মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২৮২টি নমুনা পরীক্ষায় ৮৭ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। একই কলেজের জিন এক্সপার্ট মেশিনে ২৪ নমুনায় ১২ জন এবং ১৬২ জনের অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় আরও ৫৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মিলেছে। এছাড়া বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৪৪ নমুনায় ১৬ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয় মোট ৮৭,৩৪৬ জনের।

ডা. সাজ্জাদ জানান, জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১৫,৪২৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন মোট ১৩,৩৪৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৫৫ জনের। এছাড়া চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৬২৭ জন।