টিএমএসএস গ্র্যান্ড হেল্থ সেক্টরের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন

১৫ই আগষ্ট, ২০২১ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী-২০২১ ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় টিএমএসএস গ্র্যান্ড হেল্থ সেক্টর পরিচালিত অন্যতম টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ সহ সকল চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ৮.০০ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮.৩০টায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে সংরক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। সকাল ৯.০০ টায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল ভবনের নীচে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করা হয়। এরপর সকাল ৯.৩০টায় ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় সভাপকিত্ব করেন টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শাহজাহান আলী সরকার। ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ মোঃ মোস্তফা আলম নান্নু । এসময় উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএস’র উপ-নির্বাহী পরিচালক-২, রোটা. ডাঃ মোঃ মতিউর রহমান, টিএমএসএস গ্র্যান্ড হেল্থ সেক্টরের চিকিৎসা শিক্ষা ডোমেইন-১ প্রধান অধ্যাপক ডাঃ অনুপ রহমান চৌধুরী, চিকিৎসা শিক্ষা ডোমেইন-২ প্রধান ডাঃ এএইচএম আক্তারুজ্জামান, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ আবু সালেহ মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ এবং শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মুজিববর্ষ উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, চিকিৎসক এবং কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও টিএমএসএস গ্র্যান্ড হেল্থ সেক্টর পরিচালিত সকল চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৮০জন ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রগণ করেন। ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন আজ বাঙালি জাতির শোকের দিন। ইতিহাসের কলঙ্কিত কালো দিন। স্বাধীন দেশে কোনো বাঙালি তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে না-এমন দৃঢ়বিশ্বাস ছিল বঙ্গবন্ধুর। সেজন্যই সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে তিনি থাকতেন তাঁর প্রিয় ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর ধানমন্ডির অপরিসর নিজ বাসভবনেই। ১৫ আগস্ট অতিপ্রত্যুষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালায় ঘাতক দল। ৪৫ বছর আগে এ দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল। বাঙালির মুক্তির মহানায়ক স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষে যখন ক্ষত-বিক্ষত অবস্থা থেকে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তখনই ঘটানো হয় ইতিহাসের নির্মম এ ঘটনা। সেদিন ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালসহ পরিবারের ১৬ সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। প্রতি বছর দিনটি আসে বাঙালির হৃদয়ে শোক আর কষ্টের দীর্ঘশ্বাস হয়ে। পুরো জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করে। এ বছর করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে স্বল্প পরিসরে কর্মসূচি পালন করা হয়। সকল শহীদদের মাগফেরাত এবং দেশের উত্তরোত্তর উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় সঞ্চালনায় দায়িত্বে ছিলেন টিএমআইআরটি’র প্রসাশনিক বর্মকর্তা মোঃ রুকুজ্জামান সাজু। ভার্চুয়াল আলোচনা শেষে বক্তারা ১৫ আগষ্ট স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।